‘পাহাড়ের পথে’

 

জানি গুয়াহাটি – শিলং অনেক পরিচিত জায়গা, সবার সবটাই ঘোরা, কিন্তু তাও দিলাম যদি কারোর অজানা থেকে থাকে। আমি ট্যুর গ্রুপের মাধ্যমে অনেক জায়গার হদিস পাই যার কিছুটা আমি আর বাকি দিদি আর জামাইবাবু মিলে একত্রিত করি। আশা করি আমার এই লেখা সবার ভালো লাগবে।

২৬সে অক্টোবর ২০১৮ সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গেলো বেড়োতে হবে বলে। গন্তব্য গুয়াহাটি। ৩:৫০ এর সরাইঘাট এক্সপ্রেস । সময় মতো পৌঁছে গেলাম হাওড়া স্টেশন। সেখানে আগে থেকেই পরিবারের বাকি সদস্যরা অপেক্ষা করছিল। ট্রেন সময় মতো ছাড়লো। বিকালের খাওয়া দাওয়া বেশ জমিয়ে করলাম। দিদির আনা sandwich আর আমার করা পাস্তা খেয়ে সবার বেস বাহবা পেলাম আমি আর দিদি। রাতের dinner ও দারুন ছিল ।। পরের দিন train late করে নি। Time এ গুয়াহাটি station এ পৌছালাম। Station থেকে হোটেলের দূরত্ব বেশি ছিল না ,তাই এক রিক্সা তে সব ব্যাগ তুলে দিয়ে তাকে তদারকি করতে করতে হোটেল পৌছালাম। “Hotel Biswanath”- এ ঘর পেতে একটু দেরি হলো। Fresh হয়ে lunch করলাম সামনের “Ma Kali Hotel” থেকে । Veg থালি order দিলাম, standard খাবার ।

এখান থেকে শুরু হলো আমাদের যাত্রা Guwahati-Shillong- Cherrapunji- Mawlynnong.আমাদের Trip ছিল আসা যাওয়া সমেত ১০ দিনের ।
১ম দিন, ২৭শে অক্টোবর ২০১৮

১. Basistha Ashram :- খুব সুন্দর জায়গা টি, মন্দিরের পিছনে একটি ছোট ঝর্না আছে সেটাও দেখার মতো। খুব ভালো লাগবে। গাড়ি হোটেল এর সামনে থেকেই পেয়েছিলাম। আমরা ৯ জন ছিলাম, যাওয়া আসা মিলিয়ে ১০০০ টাকা পড়লো (7 sitter car)

Baisistha Ashram

২. Balaji Temple :- মন্দির টি দেখতে সন্ধ্যের দিকে যাবেন। Light works দেখার মতো।

Balaji Temple

২য় দিন, ২৮শে অক্টোবর ২০১৮
১. Kamakhya Temple :- ভোর 3 টেয়ে উঠে তৈরি হয়ে নিলাম কামাখ্যা মন্দির দর্শন এর উদ্দেশ্যে, কারণ ভোরের দিকেই লাইন কম থাকে। VIP লাইনে সময় কম লাগলো। মন্দির দর্শন খুব ভালো করে করলাম। বলাই বাহুল্য যে পূজো খুব ভালো ভাবে দিয়েছি। পুজো দিয়ে মনটা আনন্দে ভরে গেল। প্রসাদ নিয়ে ফেরার পথে দেখলাম “মা বগলা দেবীর মন্দির” কামাক্ষা মন্দিরের কাছেই পরে। বেশ নিরিবিলি জায়গা, ১০০ র মতো খাড়াই সিঁড়ি নেমে দর্শন করলাম। খুব শান্ত জায়গা। বিশেষ কেউ যায়না।

Kamakhya Temple

২. হোটেলে ফিরে fresh হয়ে local bus এ করে চলে গেলাম “Umananda Temple”। ব্রহ্মপুত্র নদীর বুক চিরে এগিয়ে চললাম সেই দিকে, বেশ সুন্দর জায়গা। মন্দির দর্শন করে হোটেল এ ফিরে সেই দিনের lunch টা হোটেল বিশ্বনাথ র যে রেস্টুরেন্ট আছে ওখানে খেলাম (স্বপ্না রেস্টুরেন্ট) সবাইকে বলে রাখি খাবারের standard খুব ভালো, staff রাও ভালো।

Umananda Temple

3. Shankardeb Kalakhetram :- Hotel থেকে ২৬min লাগলো ৯কি.মি. পথ. এটি একটি museum. 3 টে অটো ধরে চলে গেলাম up-down মিলিয়ে ৩০০ টাকা নিলো। সব দেখে হোটেল এ ফিরে এলাম। খুব বড় এলাকা নিয়ে। হাতে time নিয়ে যাবেন।

৩য় দিন, ২৯শে অক্টোবর ২০১৮

Pobitora Wildlife Sanctuary :- Hotel থেকে পৌনে ২ ঘন্টা লাগলো পৌঁছাতে, ৪৩কি.মি . সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম sanctuary যাবার জন্য, গাড়ি অসম tourism এর মাধ্যমে book করা হয়েছিল। ওখানে গিয়ে তো গাড়ি করে বেরিয়ে পড়লাম এক শৃঙ্গ গন্ডার দেখার জন্য। ছোট ছোট ২ টো গন্ডার দেখার পরেই সামনে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বড় এক গন্ডারের দেখা পেলাম, সে তো আমাদের আগমন দেখে ফটো তোলার জন্য সুন্দর সুন্দর pose দিলো, আমরাও সুযোগ ছাড়লাম না।

Rhino in Pobitora Wildlife Sanctuary

জায়গা টি বেশ ভালো লাগলো। অনেক লোকের আগমন হয়না তাই খুব শান্ত ও নিরিবিলি। Tourist এর সংখ্যা খুবই কম, তাই বন্য পরিবেশ আরো মনোরম লাগছিলো। এ ছাড়াও আরো কিছু গন্ডারের দেখা পাই। তারপর আস্তে আস্তে হোটেল র দিকে ফিরে আসি পরের দিনের গোছ গাছের জন্য। পরের দিন আমাদের গন্তব্য শিলং।

৪র্থ, ৩০শে অক্টোবর ২০১৮
Umiam Lake
Don Bosco Museum
Cathedral Church

সকালে সময় মতো আগে থেকে বুক করে রাখা গাড়ি চলে আসে। গাড়ি করে চললাম শিলং এর দিকে। গুয়াহাটি থেকে শিলং ৩ ঘন্টা লাগে, ৯৭ কি.মি. মাঝপথে Umiam lake দেখলাম, দারুন দৃশ্য. entry fee ৫০ টাকা. এই lake টাকে আমরা খুব enjoy করেছি। এটি এতটাই বড় যে একে সবাই ‘বড়াপানি’ নামে চেনে ।

Umiam Lake

এর পর চলে গেলাম Don Bosco Museum এ । Entry fee ১০০টাকা. Camera & mobile দিয়ে ফটো তুললে আলাদা করে pass করতে হবে । এটি উদ্বোধন হয় ২০১০ সালে, সেই সব দেখে চলে গেলাম top floor এ, সেখানে skywalk করা হয়েছে , সেখান থেকে Shillong শহর টা প্রায় সবটাই দেখা যাচ্ছিল। ভীষণ সুন্দর লাগবে আপনাদেরও আশা করি।

Skywalk at Don Bosco Museum

সব দেখে বেরোলাম খেতে , পাশেই Don Bosco Museum র খাবার জায়গা আছে। অত্যন্ত খারাপ quality। ১০০টাকা এ “unlimited thali” বলে ভেতরে গেছিলাম। খেতে বসে গড়বড় টা বুঝতে পারি। Unlimited veg. thali তে শুধু মাত্র ভাত আর ডাল পাওয়া যাবে। বুঝলাম পুরো ঠোকেছি। তাই এই ব্যাপার এ সবাইকে সাবধান করতে চাই। আবার চলতে থাকলাম শিলং এর দিকে। আমরা যে হোটেলটি book করেছিলাম সেটি Police Bazar থেকে (write in Bangla script) ৩কি.মি.. ভেতরে তাই খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হলো। “Oyo 4740 White Orchid” হোটেল এর নাম, google map দিয়ে সবটাই চলে গেছিলাম । কিন্তু শেষে জানলাম একটু পথ হেঁটে উঠতে হবে আর কোনো গাড়ী যাবে না। ওখানে ছোট ও প্রাইভেট গাড়ি যায়। হোটেল এর নিজস্য পার্কিং নাই। তাই নিজেদেরই luggage নিয়ে উঠতে হলো, খুবই ক্লান্ত ছিলাম তাই আর সেদিন সবাই বেরোলাম না। হোটেল এ ঢুকতে ঢুকতে ৪:৩০ বেজে গেলো। তাই আর কোনো sightseeing করা গেল না। শুধু Shillong Cathedral Church দেখলাম, hotel থেকে 5min এর রাস্তা।

Shillong Cathedral Church

মন খারাপ তো হচ্ছিলো। কিন্তু কিছু করার নাই। জায়গা টি ভীষণ সুন্দর, staff কম, কেউ যদি মনে করেন কোলাহল থেকে দূরে থাকবেন তাহলে অবশ্যই যান। Breakfast complementary ছিল আমাদের , তাতে খাবার হিসাবে maggi, bread omlet, আর পরোটাও পাওয়া যায়। তাই আমরা সকলেই সকাল সকাল maggi খেয়ে বেরোতাম , মজার কথা হলো মা বাবারা maggi খাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি করেন,বলেন “ওইসব আজেবাজে জিনিস কেন খাস?” কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতে মা বাবারা বেশ আনন্দের সাথেই তা খাচ্ছিলেন, দেখে তো বেশ মজা পাচ্ছিলাম, পরে বুঝলাম পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়া নিয়েছিল সবাই। তাই বাধ্য হয়ে পর পর ওই একই breakfast করে বেরোতে হচ্ছিল। সেটি রান্নার লোক ৭:৩০ তার মধ্যে তৈরি করে দিচ্ছিলো। পরের দিন Cherrapunji যাবার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম।

৫ম দিন, ৩১শে অক্টোবর ২০১৮
পরের দিন Cherrapunji । দেখলাম Seven Sisters Waterfall, কিন্তু ৭ বোনের মধ্যে ১ জনেরও দেখা মিলল না। এরপর হতাশ হয়ে চলে গেলাম Mawsmai cave, তার প্রশংসা না করে থাকা গেল না, কেউ যদি Araku Valleyর Borra Cavesএ না ঢুকে থাকেন তবে এখানে অবশ্যই যাবেন।

Mawsmai Cave

অনুভুতিটা একই থাকবে সাথে thrilling……… এরপর Nohkalikai Falls , এটিও দেখে খুব ভালো লাগলো। এরপর eco park with Missing Falls ,এখান থেকে বাংলাদেশ এর border দেখা গেল খুব ভালো করেই।

Lunch টা বাইরে করলাম। সেইদিন বাইরে পথের ধারে একটি ছোট্ট ধাবায় খেলাম, ওই ব্যবস্থাকে আদৌ ধবা বলা যায় কিনা জানি না। কলাই এর ছোট dish এ ফ্যান সমেত ভাত , ডাল, সব্জি আর ওদের ঘরে বানানো টমেটো পিঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কার চাটনি এই মেনু । খাবারের quality restaurant এর মত ছিল না ঠিকই কিন্ত খাবার টা অসম্ভব ভালো ছিল, কোনো দিন ভুলবো না। চাটনি খেয়ে তো আমাদের মুখ ছেড়ে গেল।

এর পর গাড়ি আবার এগিয়ে চললো। বর্তমান গন্তব্য Elephant Falls। অনেক গুলো সিঁড়ি অতিক্রম করে নীচে নামলাম falls দেখতে। এরপর হোটেল এ ফেরা। পরের দিন ছিল Mawlynnong village.
৬ষ্ঠ দিন, ১লা নভেম্বর ২০১৮

Mawlynnong Village
Umngot/Dawki River
Riwai Living Root Bridge
Tamabil-Bangladesh Border
প্রথমে দেখলাম Dawki, কি আর বলি, যা দেখলাম তা লিখে বর্ণনা করা যাবে না, সত্যি প্রকৃতির কি অপরূপ সৃষ্টি। Internet এ যা দেখেছিলাম হুবহু একই ছবি দেখার সুযোগ হলো। আমি, দিদি আর জামাইবাবু ভীষণ খুশি, আর বাকিরা তো বটেই। এমন crystal clear water এ boating করে সত্যি দারুন লাগছিলো। সে আনন্দ লিখে প্রকাশ করা যায়না।

তারপর Riwai single root bridge সেটাও বেশ মজার লাগলো, কারণ bridge র ওপর দাঁড়ানো যাবে না, দাঁড়ালেই guard তাড়া দিচ্ছে।

Riwai Living Root Bridge

তারপর Tamabil বাংলাদেশ border দেখে চলে গেলাম সোজা Mawlynnong village এ। সত্যি সুন্দর পরিষ্কার গ্রাম, দেখেই মনে হলো সত্যি এটি Asia র cleanest village । সেদিনও একই ভাবে Mawlynnong village এ ঢোকার মুখে যে restaurant আছে সেখানেই খেলাম। খুবই ভালো খাওয়া দাওয়া হলো। ফিরে এলাম হোটেল এ। সেদিন ফিরতে একটু বেশি দেরি হয়ে গেছিল। সন্ধ্যে নেমে আসে , তাই ওই পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেরাটা ভীষণ thrilling লাগছিলো। অন্য দিকে মনে মনে ভয়ও পাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল যদি পথ ভুল করে অন্য রাস্তায় চলে যাই যদি! কেনো মনে হচ্ছিল জানি না, কিন্তু পরক্ষনেই ভয় কাটিয়ে মনকে শান্ত করে পরিস্থিতির আনন্দে মেতে উঠলাম।

Mawlynnong Village

৭তম দিন, ২য় নভেম্বর ২০১৮
এই দিনের গন্তব্য ছিল Krang Suri Waterfall । এই falls দেখতে প্রায় ৯০ km পথ অতিক্রম করতে হলো, স্বভাবতই কিছুটা পরিশ্রান্ত হলাম, কিন্তু falls টা দারুন দেখলাম। এর আগে অনেক falls ই দেখেছি কিন্তু এমন স্বচ্ছ নীল জলের falls এই প্রথম দেখলাম, লোকজন কম খুবই, কিন্তু falls র মনোরম দৃশ্য দেখে মন মুগ্ধ হয়ে যায়।

Krang Suri Waterfall

এরপর খেয়ে দেয়ে হোটেল এ ফেরা। হোটেল এ ফিরেই খবর পেলাম পরের দিন আসাম বন্ধ ডেকেছে কারণ তিনসুকিয়া তে কিছু বাঙালিদের হত্যা করা হয়েছে । দুর্ভাগ্যবশত পরের দিন ৩রা নভেম্বর সকালেই আমাদের ফেরার train ধরার জন্য গুয়াহাটি ফিরতে হবে। সব মিলিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পরের দিন ৭টায় বেড়িয়ে পড়লাম, কোনো অসুবিধা হয়নি। গুয়াহাটি থেকে ট্রেন ধরে পরের দিন ৪ঠা নভেম্বর সকালে হাওড়া ঢুকে পড়লাম। শেষ হলো আমি দিদি আর জামাইবাবু র তৈরি করা tour programme।।

Leave a Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *